রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেল নিহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণসহ ছয়টি দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভকালে তারা এসব দাবি জানান।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেল নিহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণসহ ছয়টি দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভকালে তারা এসব দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, নিহতের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহতের বোনকে চাকরি দিতে হবে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাল্টাতে হবে, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হিমেল নিহতের ঘটনাকে হত্যাকান্ড হিসেবে বিচার করতে হবে।
এদিকে, শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আন্দোলন চলাকালে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার প্রক্টরকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে নিহতের লাশ সামনে নিয়ে ক্ষতিপূরণের দাবি আদায় করার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। অন্যান্য দাবিগুলোর বিষয়ে কথা বলার জন্য বিকাল ৪টায় সাবাস বাংলাদেশ মাঠে উপাচার্যের সঙ্গে আলাপে বসবেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে রাত পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো লিখিতভাবে গ্রহণ করে উপাচার্য তাঁর বাসভবনে প্রবেশ করেন। পরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং দাবি আদায়ের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।
এদিকে ট্রাকচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা নির্মাণ সামগ্রী আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ৫টি ট্রাক ও নির্মাণাধীন ভবনের বেশ কয়েক জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়াও সহস্রাধিক বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী তারা নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। রাত আড়াইটা পর্যন্ত তারা এ আন্দোলন চালিয়ে যান। শেষে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার পৌনে ১১টায় লাশটি রামেক হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় হয়। সকালে হিমেলের লাশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এনে সহপাঠিদের দেখিয়ে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদে জানাজা শেষে তার গ্রামের বাসা নাটোরে সদর কাপড়পট্টিতে এলাকায় জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
Leave a Reply