১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে জ¦ালানি সংকটের কারণেই অফিস সময় বদল করেছিল। এ রকম নানা কারণ দেখিয়ে বারবার অফিস সময় বদল করা হয়েছে। আগে ৯টা থেকে ৫টা অফিস থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল শুক্রবার। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন শুক্র ও শনিবার করা হয়। এত বছর পর অফিস সময় এগিয়ে আনা হলো সেই জ্বালানি সংকটের কারণেই।
১৯৭৭ থেকে ’৮২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অফিস সময়সূচি ছিল ১০টা থেকে ৫টা। ওই সময় সাপ্তাহিক ছুটি ছিল দেড় দিন। শনিবার অর্ধদিবস এবং রবিবার পূর্ণদিবস ছুটি। ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে এরশাদ সরকার সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারণ করে শুক্র ও শনিবার। এরশাদ এ ছুটি নির্ধারণে ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়েছিলেন। ওই সময় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অফিস ছিল। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে দেশ গঠনে বেশি সময় কাজ করার কথা বলে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দেওয়া হয়। এরপর থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি এক দিনই ছিল। মাঝে বৃহস্পতিবার হাফ হলিডেও ছিল।
একসময় সচিবালয়ের অফিস এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অফিস সময়সূচিতেও পার্থক্য ছিল। সচিবালয়ের অফিস ৮টায় শুরু হলেও মাঠপ্রশাসনের অফিস শুরু হতো ১০টায়। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকেই কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং মাঠপ্রশাসনের অফিস সময় এক করা হয়েছে।
সরকারের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বারবার অফিস সময় বদলে প্রশাসনে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয় কি না তা জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যুতের জন্য মানুষ কষ্ট করছে। সরকারের সামনেও বিকল্প পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না। কাজেই সরকার যে উদ্দেশ্যে অফিস সময় বদল করেছে তা যেন সফল হয়। কিন্তু অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করা হয় সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে। মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে সরকারি অফিসে সেবা নিতে যান। সেখানে সকাল ৮টায় অফিস শুরু হবে এটা “টু আর্লি” হতে পারে। সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা অফিসে যেতে যেতেই অনেকের যাওয়ার সময় হয়ে যেতে পারে।’
এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের মেয়াদে ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার জ্বালানি সংকটের জন্যই সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন করেছিল। ওই সময় আরও যুক্তি ছিল মানুষ
যেন গ্রামে থেকেও অফিস করতে পারে। পরিবারের সদস্যদের কাছে থাকতে পারে। কিন্তু সেটা খুব বেশি সফল হয়নি। কারণ যোগাযোগমাধ্যমের অনেক উন্নতি হলেও যানবাহনের চাপ বাড়ার কারণে কর্মীদের অফিসের কাছাকাছিই থাকতে হতো।’
সাবেক স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান গতকাল বলেন, ‘সরকার সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে অফিস সময় পরিবর্তন করেছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেই আগের নিয়মে ফিরে যাবে। সরকার অফিস সময় নির্ধারণ করে মূলত কর্মঘণ্টা হিসাব করে। বর্তমান নিয়মে কর্মঘণ্টা হয় সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা। আগামীকাল বুধবার থেকে যে নিয়ম চালু হচ্ছে তাতে কর্মঘণ্টা হবে ৩৫ ঘণ্টা। সারা বিশে^ই উন্নত দেশের সরকারগুলো কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিকেল ৫টার পর থেকে বিদ্যুতের লোড বাড়তে থাকে। সেই সময় ট্রাফিক জ্যাম অনেক বেশি হয়। ৫টা পর্যন্ত অফিস বলা হলেও ৭টা-৮টা পর্যন্তও অফিস খোলা থাকে। এখন যেহেতু বিশেষ ব্যবস্থা তাই ঠিক সময়েই বন্ধ হয়ে যাবে। সেই বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি দুদিন করা ঠিকই আছে। এটা আরও আগেই করা যেত। কারণ সপ্তাহে পাঁচ দিন ক্লাস হলে পুরো কোর্সই শেষ করা যায়। তাছাড়া আগামী বছর থেকে এটা সপ্তাহে দুদিন করার পরিকল্পনা ছিলই। সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন করার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়ে গেছে। সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সপ্তাহে দুদিন ছুটি পাবেন আর শিক্ষকরা কেন এক দিন ভোগ করবেন।’
Leave a Reply