বেসরকারি কলেজের প্রভাষকদের পদোন্নতি কমিটিতে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (আইসিটি ও শিক্ষা) সদস্য করার প্রস্তাব করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা ষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুই এক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অনুমোদন দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সূত্র।
মন্ত্রণলয় সূত্র জানায়, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় প্রভাষকদের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিধান রয়েছে। বেসরকারি কলেজে কর্মরত প্রভাষক থেকে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য গঠিত কমিটিতে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (আইসিটি ও শিক্ষা) সদস্য করে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বেসরকারি স্কুল কলেজের নতুন এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে বিভিন্ন কলেজে কর্মরত প্রভাষকদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়েছে। ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজের প্রভাষকদের চাকরির আট বছর পূর্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হলেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের প্রভাষকদের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়েছে। প্রভাষকদের পদোন্নতির মূল্যায়ন কিভাবে হবে সে লক্ষ্যে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বছর অর্থাৎ ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের শেষে এ রূপরেখা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি।
প্রভাষকদের পদোন্নতি রূপরেখা প্রণয়ন কমিটিতে থাকা একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রভাষকদের পদোন্নতির রূপরেখা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। প্রভাষকদের পদোন্নতি কমিটির সভাপতি হিসেবে ডিসি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে সদস্য করার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভাষকদের পদোন্নতি রূপরেখা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফৌজিয়া জাফরীন সোমবার রাতে বলেন, এটি চূড়ান্ত না হলে কিছু বলা যায়। অনুমোদন হলে এ বিষয়ে বলা যাবে।
তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পর্যায়ের অফিস থাকলেও বিভাগীয় পর্যায়ে অফিস নেই। তাদের বিভাগীয় অফিস থাকলে তাদের মাধ্যমে হয়তো এটি করা যেতো।
জানা গেছে, ডিউটিস অব চার্টার অনুযায়ী জেলা প্রশাসক জেলার বিভিন্ন দপ্তর সম্পর্কিত ১২০টি কমিটির সভাপতি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাব অনুমোদন হলে কমিটির সংখ্যা আরো একটি যোগ হবে। জেলায় অবস্থিত প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অফিস জেলা প্রশাসনের অংশ এবং জেলা প্রশাসকের সাধারণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। জেলাপর্যায়ের এনজিও বিষয়ক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের কাজও করেন তারা। আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, বিনোদন, শিক্ষা, বিজ্ঞান, কর্মসংস্থান, নারী ও শিশু, ধর্ম, পাঠাগার, দুর্যোগ ও ত্রাণ, কৃষি, প্রাণী, সার ও বীজ এসবের তত্ত্বাবধানও তাদের আওতায় পড়ে।
জানা গেছে, সারা দেশে এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজ আছে এক হাজার ৩৬টি। স্কুল অ্যান্ড কলেজ আছে এক হাজার ৪৯১টি এবং উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ আছে এক হাজার ২৮টি। নন-এমপিওভুক্ত কলেজ আছে দুই হাজারের মতো। এসব কলেজে প্রায় দেড় লাখ কলেজ শিক্ষক রয়েছেন।
২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ জারি করা বেসরকারি স্কুল-কলেজের নতুন এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে বিভিন্ন কলেজে কর্মরত প্রভাষকদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়। চাকরির আট বছর পূর্তিতে ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের প্রভাষকদের চাকরির আট বছর পূর্তিতে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, মূল্যায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ একটি কমিটি গঠন করবে। সেই কমিটি সূচকগুলো মূল্যায়ন করে পদোন্নতি দেবে।
Leave a Reply