ঈদের একদিন আগে রংপুরের বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটের কারণে বোতলপ্রতি ৩০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। দু-একটি দোকানে এক ও দুই লিটার বোতলজাত তেল মিললেও পাঁচ লিটারের বোতল প্রায়ই উধাও। এ অবস্থায় খোলা তেলও বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।
সোমবার (২ মে) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ও পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দেওয়ায় গত কয়েকদিনের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে তেল। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮০-১৯০ টাকা, দুই লিটার ৩৫০-৩৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটার তেলের দাম ১০০০ হাজার টাকা হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতা। খোলা সয়াবিন ২১০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সিটি বাজারে তুহিন স্টোর, বাবুল স্টোর, আসলাম স্টোরসহ একাধিক মুদি দোকানে খোঁজ নিয়ে পাঁচ লিটার বোতল পাওয়া যায়নি। তবে মিজান স্টোরে পাঁচ লিটার বোতল মিললেও দোকানদার এক হাজার টাকা দাম চাইছেন।
মিজান স্টোরের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের ঘাটতি থাকায় কোম্পানিগুলো চাহিদামতো তেল সরবরাহ করছে না। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণের জন্য সামান্য কিছু বোতল বেশি দামে কিনে দোকানে রেখেছি।
জিহাদ স্টোরের মুকুল মিয়া জানান, গত কয়েকদিন ধরে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আর পাওয়া গেলেও কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা অতিরিক্ত দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
নির্ণয় স্টোরের সোহাগ বলেন, আমার কাছে এক ও দুই লিটারের কিছু বোতল রয়েছে। যতক্ষণ আছে ততক্ষণ বিক্রি করবো। তার মতে, ঈদের কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদের পর এ দাম থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নগরীর হাড়িপট্টি রোডে এনামুল স্টোরের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘আগে পাইকারি বাজারে যে পরিমাণ তেল পেতাম এখন অর্ধেকেরও কম পাওয়া যাচ্ছে। পেলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’
মুলাটোল আমতলা বাজারে তেল কিনতে আসা আবু বক্কর বলেন, বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরলাম। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেশি। শেষ পর্যন্ত ২২০ টাকা দিয়ে খোলা তেল কিনলাম।
এতদিন আমতলা বাজারের ব্যবসায়ী ভুট্টো মিয়ার দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল মিললেও সোমবার তিনি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।
জানতে চাইলে ভুট্টো বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে শুধু তেল দিচ্ছে না। আটা, ময়দা, চিনি, লবণসহ অন্যান্য পণ্য কিনলে এক-দুই লিটারের কয়েকটি বোতল পাওয়া যাচ্ছে। তাও আবার দাম বেশি। এ অবস্থায় বোতলজাত তেল বিক্রি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।’
গত মঙ্গলবার রংপুরের বাজারে খুচরা পর্যায়ে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬০ টাকা, দুই লিটার ৩২০ টাকা ও পাঁচ লিটার তেল ৭৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছিল ১৯০-১৯৫ টাকা লিটার।
Leave a Reply