সাতক্ষীরার কলারোয়া সরকারি জি কে এম কে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছ থেকে সরকারিকরণের নামে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রবের বিরুদ্ধে। এমনই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেছেন, নতুন করে আরও এক লাখ টাকা দাবি করলেও টাকা না দেয়ায় তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছেন প্রধান শিক্ষক ও তার লোকজন।
স্থানীয়দের সহায়তায় কোন রকমে জীবন বাঁচানোর পর চিকিৎসা শেষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অত্যাচার, ৫ লাখ টাকা ফেরত এবং জীবনের নিরাপত্তার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই শিক্ষক।
মঙ্গলবার বিকেলে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সন্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান। তিনি কলারোয়া জি কে এম কে পাইলট সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও উপজেলার গদখালী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কলারোয়া সরকারি জি কে এম কে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক হিসেবে তিনি ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুন থেকে কর্মরত। বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব এই স্কুলে যোগদান করার পর হতে স্কুলের উপর্জিত সব টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ২১ মে সরকারি করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন শিক্ষকদের কাছ হতে বড় অঙ্কের টাকা তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি আমার কাছে থেকে চাকরি সরকারিকরণ (আত্তীকরণ) করার নাম করে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫ লাখ টাকা জোর করে আদায় করে তা নিজে আত্মসাৎ করেন। আমাদের বিদ্যালয়ে এখনও কোন সরকারি টাকা বরাদ্দ হয়নি। ফলে সব শিক্ষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক চলতি বছরের গত ১৩ এপ্রিল আমার কাছে ১ টাকা দাবি করেন আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে হত্যার হুমকি দেন। আমি কোন উত্তর না দিয়ে বাড়ি চলে যায়। এরপর গত ১৭ এপ্রিল রাত সোয়া ১০ টার দিকে আমি আমার গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার পথে লোহাকুড়া ঘোষের পুকুর নামক স্থানে পাকা রাস্তায় প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব ও মাওলানা শিক্ষক আক্তারসহ আরও ৪-৫ জন সন্ত্রাসী রড, হাতুড়ি, চাকু, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন।
তিনি বলেন, আমার মাথায়, বাম হাতে, বাম পায়ে এবং ডান হাতে চাপাতি ও রড দিয়ে প্রচন্ডভাবে আঘাত করে প্রধান শিক্ষক নিজে এবং তার সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনীকে বলেন ওকে মেরে পুতে ফেল তখন আমি চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে আমাকে উদ্ধার করে দ্রুত কলারোয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব তিনি সমাজের মুখোশধারী শিক্ষিত নামের একজন মানুষমাত্র। কিন্তু তার মধ্যে কোন মনুষ্যত্ববোধ নেই। তিনি একটি নারীলোভী শিক্ষক। তিনি তার প্রেমের জালে আটকিয়ে ১৬ বছরে মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। তিনি শুধু জীবনে টাকা চেনেন তিনি টাকার জন্য যে কোন প্রকার অন্যায় করতে পিছপা হন না। তিনি বিদ্যালয় সরকারিকরণের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন কুটকৌশলে অভিনব কায়দায় টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধান শিক্ষক আব্দুর রবের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নেয়া ৫ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দেয়াসহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply