রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই বৈঠকের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করলেন যে, দেশের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা প্রথমবারের মতো বিএনপিই তুলে ধরেছিল। তিনি বলেন, “সংস্কার অবশ্যই করতে হবে, সেই সংস্কারের কথা সবার আগে বলেছে বিএনপি। কিন্তু সেই সংস্কারটা যত দ্রুত করা যায়। আমরা যেটা বলেছি, মূলত নির্বাচন কেন্দ্রিক বিষয়গুলো সংস্কারগুলো করে ফেলা, তারপর দ্রুত নির্বাচন করা, এরপর একটি সংসদের মাধ্যমে বাড়তি সংস্কারগুলো করা। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটাই আমরা বলেছি।”
শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১টায় রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই বৈঠকে বিএনপির পক্ষে থেকে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন আহমেদ।
বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতিসংঘ মহাসচিবকে সংস্কার কমিশনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা। বৈঠক শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁদের মতামত ভাগ করে নেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব সংস্কার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, “জাতিসংঘ মহাসচিব এই ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আসলে এই গোলটেবিলটা, আমি আসলে বুঝিনি আরকি! মূলত এখানে সংস্কারে যে কমিশনগুলো করা হয়েছে, সে বিষয়গুলো জাতিসংঘ মহাসচিবকে অবহিত করা হয়েছে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই বিষয়ে অবহিত করেছেন। আমরা আমাদের বক্তব্যের মধ্যে যে কথাগুলো বলে আসছি, সেই একই কথা বলেছি।”
নির্বাচনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের কোনো টাইম ফ্রেমের কথা বলার প্রয়োজন নেই। সংস্কার আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমরা সংস্কার কমিশনগুলোর সঙ্গে কথা বলছি, তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। তারা যা চাচ্ছে আমরা সব দিয়ে দিচ্ছি। ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে একটা বৈঠক হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবকে আমরা আমাদের টাইম ফ্রেমটা দিতে যাব কেন?”
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
Leave a Reply