নেত্রকোনার মদনে স্কুল শিক্ষিকা সীমা আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ধর্ষক রুমেল ও তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার ও আত্মহত্যাকারী সীমা আক্তারের ভাই নবেল আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মদন থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার বিষয়টি মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম দৈনিক যুগান্তর অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ধর্ষণের শিকার স্কুল শিক্ষিকার আত্মহত্যার খবর পেয়ে শনিবার নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসি ঘটনাস্থল সরজমিনে পরিদর্শনে যান।
এ সময় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিহত শিক্ষিকার ছোট ভাই ইমরান জানান, বৃহস্পতিবার স্থানীয় ব্র্যাক স্কুল শিক্ষিকা সীমা আক্তার বেতন ও ঈদ বোনাস নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
এ সময় ধর্ষক রুমেলের বড় ভাই রাসেল তাকে চয়েজ ফ্যাশনের দোকানে ডেকে এনে ধর্ষণ মামলা তুলতে ও গোপন ভিডিও ফাসঁ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এমন হুমকির পর বৃহস্পতিবার সীমা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
নিহত স্কুল শিক্ষিকার মা রাজিয়া আক্তার জানান, ওই রুমেল আমার মেয়েকে, আমার পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমার ছেলে মামলা করেছে। এর আগেও একটি তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে। আমি এর ন্যায় বিচার চাই।
নিহত সীমার মা আরও বলেন, রুমেলের ভাই রাসেল অকথ্য ভাষায় গালাগালি বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখানোর কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি চাই আমার মেয়ে যেভাবে আত্মহত্যা করেছে সরকার যেন এভাবে তাকে ও তার ভাইকে ফাসিঁতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দণ্ড দেয়।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী জানান, যেহেতু সীমা আক্তারের সাথে রুমেলের পূর্বের একটি সর্ম্পক ছিল তাতে তাদের আপত্তিকর ভিডিও থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকিতে সীমা আক্তার আত্মহত্যা করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।
ধর্ষণ মামলাটি বিচারাধীন আছে।
আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলার বিষয়ে মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম জানান, সীমা আক্তার নামে এক স্কুল শিক্ষিকা আত্মহত্যায় রুমেল ও রাসেল বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনায় নিহতের ভাই মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
সূত্র: যুগান্তর
Leave a Reply