রাজশাহী সুগার মিলের অধীনে বাঘা উপজেলার আড়ানী সাব জোনে ৮টি আখ ক্রয় কেন্দ্রের ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চার মাস যাবত বেতন বন্ধ রয়েছে। তারা জানুয়ারী থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বেতন পায়নি। সামনে ঈদ। এই ঈদকে সামনে রেখে বেতন না পেয়ে তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাবন করছেন।
সংশ্লিষ্ট্র সূত্রে জানা গেছে, শুধু আড়ানী সাব জোন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীই নয়, রাজশাহী সুগার মিলে মোট ৪৯টি আখ ক্রয় কেন্দ্রের অধীনে ৩২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪ মাস যাবত বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাবন করছেন। শত শত টন বিক্রিত চিনির অর্থ না পাওয়ায় বেতন বন্ধ রয়েছে। এই বেতন না পাওয়ায় আশঙ্কার মধ্যে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের শঙ্কা, সরকারি পাটকলের মতো রাজশাহী সুগার মিলও না আবার বন্ধ হয়ে যায়!
প্রতি কেজি চিনি উৎপাদন ১০৮ টাকা খরচ হলেও সরকার বিক্রয় মূল্যে করে দেন ৬০ টাকা। তারপর পর্যায়ক্রমে বিক্রি হতে শুরু করে। কিন্তু এই বিক্রিত চিনির অর্থ না আসায় সুগার মিলের স্থায়ী ৩২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চার মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে।
রাজশাহী চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সিআইসি আফাজ উদ্দিন বলেন, আমরা প্রায় সময়ই চিনিকলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানিয়ে আসছি, যে বেতন না পেয়ে বৃদ্ধ বাবা, মা, স্ত্রী সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাবন করছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য। কিন্তু কার কথা কে শুনে। আতঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি বেতন বন্ধ থাকায়। বেতনের আসায় দোকানে অনেকে বাঁকিতে সদায় খেয়েছেন। অনেকেই ঈদের আগে দোকনদারকে টাকা পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সুগার মিল বেতন না দেওয়া তারা টাকা পরিশোধ করতে পারছেনা। এদিকে সামনে ঈদ। এই ঈদে স্ত্রী সন্তান বৃদ্ধ বাবা মাকে তাদের পক্ষে ভাল পোশাক দেওয়া সম্ভব হবেনা। তাই বেতন না পেয়ে মানবতার মধ্যে জীবন যাবন করছে।
আড়ানী সাব জোন ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম বলেন, বেতন না পেয়ে মানবতার মধ্যে আছি। তবে কিছুটা স্বস্থি পেয়েছি ঈদ বোনাস ও বৈশাখী ভাতা পেয়ে।
রাজশাহী চিনিকলের জিএম ফাইনান্স লতিফা খাতুন বলেন, পর্যায়ক্রমে চিনি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বিক্রিত চিনির অর্থ না আসায় বেতন হচ্ছেনা। এদিকে চিনিকলের পক্ষ থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে। বিক্রিত চিনির অর্থ বরাদ্দ আসলেই সবাই বেতন পেয়ে যাবে। ঈদের আগে বেতন পাবে কী-না এ বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি তিনি।
Leave a Reply