বরগুনা জেলায় শেষ ধাপে (এক) উপ-নির্বাচনসহ ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ জুন এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এসব ইউপিতে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা। অপরদিকে নির্বাচন কিংবা ভোটের মাঠে নেই বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো।
বরগুনার তালতলী উপজেলার ছয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ২৯ জন। তাদের মধ্যে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী ৭ জন। এ কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ভোটে জয়ী হতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
অন্যদিকে বেতাগীর কাজিরাবাদ ইউনিয়নে একই তারিখে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, তাকে প্রচার প্রচারনায় বাধা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুমন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন বলেন, এমন ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দলীয় সমর্থন ভোটের মাঠে তাদের সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার ও কৌশলের কারণে তারা স্বস্তিতে নেই। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয় পেতে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা।
জানা যায়, বরগুনার তালতলী উপজেলার ১ নম্বর পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নৌকার প্রার্থী রাজ্জাক হাওলাদারকে দিতে হচ্ছে কঠিন পরীক্ষা। বিদ্রোহী হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাফর খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন।
২ নম্বর ছোটবগী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী তৌফিক উজ্জামান তনু। স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেন ও মাহাবুব হোসেন। ৩ নম্বর কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ইব্রাহীম সিকদার পনু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন মুনসুর ও জলিল শরীফ এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রশিদ মিয়া। এই তিন প্রার্থীই ভোটারদের বিবেচনায় রয়েছেন।
৫ নম্বর বড়বগী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন আলম মুন্সী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল হক। মাঠে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। এ ছাড়া গত নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির খলিফা মাঠে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের পাখা প্রতীকের প্রার্থী শাহাদাত মাতুব্বর নীরবে ভোটের মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন।
৬ নম্বর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু মিয়া। বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল ফরাজী বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনিও নির্বাচনি মাঠে ভালো অবস্থানে আছেন। এদিকে জামায়াত নেতা জালাল পিয়াদা নীরবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলে ভোটের মাঠে হবে ত্রিমুখী লড়াই। তবে নৌকার প্রার্থী দাবি করছেন, কিছুটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে হলেও তিনি অনেক ভোটে জয়ী হবেন।
৭ নম্বর সোনাকাটা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সুলতান ফরাজীর জন্য চ্যালেঞ্জ স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আকন ও সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুচ ফরাজী।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রেজবি উল কবির জোমাদ্দার যুগান্তরকে জানান, আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাদের দলীয় পদ-পদবি কোনোটাই থাকবে না, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অটো বহিষ্কার হয়ে যাবে। নৌকার প্রার্থীদের জয়ী করতে আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
সূত্র: যুগান্তর
Leave a Reply