চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনারে বিস্ফোরণের ঘটনায় গতকাল রবিবার বিকালে আগুনের মাত্রা কমে আসে। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার পর আবারও আগুনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব আগুনের উৎস জুট, তুলা ও কাপড় ও রাসায়নিক পণ্য। ফলে জুট, তুলা, কাপড় আর রাসায়নিক পণ্যের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব পণ্যের আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। এখনও ডিপোর ভেতরে রাসায়নিক পণ্য ভর্তি কন্টেইনার আছে। কাটেনি ডিপোর ভেতরের আগুনের ঝুঁকি।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বলছেন, ডিপোর ভেতরে তুলা, জুট, সুতি কাপড় আছে। একারণে আগুনের শক্তি কমিয়ে আনা মুশকিল হচ্ছে। সে সঙ্গে ডিপোর ভেতরে ‘হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড’র আরও একটি কন্টেইনার আছে। তাই এখনও ঝুঁকি কাটেনি। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বলা হয়, ডিপোর ভেতরে সুতির কাপড়, তুলা, জুট ও রাসায়নিক কেমিক্যাল ভর্তি কনটেইনার আছে। আগুনের মাত্রা আরও বেড়েছে। কন্টেইনারগুলো আলাদা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
গতকাল রবিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেছিলেন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড নামে দাহ্য রাসায়নিক পর্দাথ থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
জানা যায়, চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোতে গত শনিবার রাত ৯টার দিকে ভয়াবহ কন্টেইনার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশত মানুষ নিহত এবং প্রায় পাঁচশত আহত হন। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, পার্কভিউ হাসপাতাল, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আহত অবস্থায় ভর্তি আছেন মোট ১৮২ জন। এছাড়া ইতোমধ্যে ১২ জন রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত ১০০ জনের বেশি চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন
Leave a Reply