রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে অবৈধ অধ্যক্ষ ও সীমাহীন দুর্নীতি/অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ আগষ্ট) এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য এডভোকেট মোঃ রোকনুজ্জামান জেলা প্রশাসক, রাজশাহীসহ দেশের সকল শিক্ষা সম্পকিত ও সকল প্রশাসনিক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তার অভিযোগের একটি বিষয় হলো- “ইউসুফপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আমিন অবৈধ ভাবে অধ্যক্ষ হয়েছেন“। তিনি কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন-
১. অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আমিন গত ০২-১১-১৯৯৬ থেকে ০৭-১১-২০০৩ ইং তারিখ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে অত্র কলেজে কর্মরত ছিলেন। অথচ ঠিক তার পরের দিন ০৮-১১-২০০৩ ইং তারিখে হঠাৎ করেই পুরোদমে অধ্যক্ষ হয়ে গেলেন। – এর পুরোটায় অবৈধ, দুর্নীতি ও অনিয়ম।
২. অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আমিন গত ১৯-০৭-১৯৯৫ ইং তারিখে প্রভাষক হিসাবে অত্র কলেজে যোগদান করেন এবং গত ০২-১১-১৯৯৬ ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হন । কলেজটি ১ম এমপিও ভুক্ত হয় ০১-০৪-২০০০ ইং তারিখে এবং তিনিও এমপিও ভুক্ত হন ০১-০৪-২০০০ ইং তারিখে। অথচ তিনি ০৮-১১-২০০৩ ইং তারিখে পুরোদমে অধ্যক্ষ হয়ে গেলেন। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিও ভুক্তির পর থেকে অভিজ্ঞতা কাউন্ট করা হয়। অধ্যক্ষ হতে হলে সেই সময়ে ১২ বৎসরের প্রভাষকের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতো। হিসাব অনুযায়ী তার অভিজ্ঞতা ০১-০৪-২০০০ ইং তারিখ থেকে ০৮-১১-২০০৩ ইং তারিখে হয়েছিল ৩ বৎসর ৭ মাস ৭ দিন মাত্র। – এর পুরোটায় অবৈধ, দুর্নীতি ও অনিয়ম।
৩. অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আমিন উচ্চ মাধ্যমিক লেভেলে ০৮-১১-২০০৩ ইং তারিখে অধ্যক্ষ হিসাবে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে অধ্যক্ষের স্কেল অর্থাৎ ৫ কোডে বেতন না নিয়ে ৬ কোডে বেতন নিয়েছেন। তিনি নিজেকে ফাউন্ডার অধ্যক্ষ হিসাবে দেখিয়েছেন এবং বোঝাতে চেয়েছেন ফাউন্ডার অধ্যক্ষদের যে নিয়ম আছে সেটা পুরোপুরি পালন করেছেন। অথচ তিনি ফাউন্ডার অধ্যক্ষ নন। তার পূর্বে আরো ২ (দুই) জন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী ফাউন্ডার অধ্যক্ষ হতে হলে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সময় থেকে তাকে অধ্যক্ষ হিসাবে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে হবে। তিনি এগুলোর কোনটাই করেননি। অতএব- পুরোটায় অবৈধ, দুর্নীতি ও অনিয়ম।
৪. অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আমিন এর শিক্ষাগত যোগ্যতা- এস. এস. সি- ২য় বিভাগ, এইচ. এস. সি- ৩য় বিভাগ, স্নাতক (সম্মান)- ২য় শ্রেণী ও স্নাতকোত্তর- ২য় শ্রেণী। অথচ সে সময়ের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় প্রভাষক ও অধ্যক্ষ পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হলো- সকল পরীক্ষায় ২য় বিভাগ/শ্রেণী থাকিতে হইবে। তার এইচ. এস. সি পরীক্ষার রেজাল্ট ৩য় বিভাগ । অতএব- পুরোটায় অবৈধ, দুর্নীতি ও অনিয়ম।
অভিযোগকারী যথযথ কতৃপক্ষকে ইউসুফপুর ডিগ্রী কলেজের অবৈধ অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আমিনের সীমাহীন দুর্নীতি/অনিয়মের উপরোক্ত বিষয়গুলি সরেজমিনে তদন্ত করতঃ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও তার প্রভাষক এবং অধ্যক্ষ পদের বিপরীতে সরকারী কোষাগার থেকে এ পর্যন্ত যত অর্থ বেতন হিসাবে উত্তোলন করেছেন তা সমুদয়ে ফেরত নেওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করেছেন।
আরও পড়ুন- অবৈধ অধ্যক্ষ ও তার দুর্নীতি
Leave a Reply